বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:২১ পূর্বাহ্ন
মেসির প্রতিশোধের গল্প শুরু আজ, পুরোনো ক্লাবের বিপক্ষে যুদ্ধ!
অনলাইন ডেস্ক
বিশ্বাসযোগ্য মনে না হলেও, বাস্তবতা এটাই—ইন্টার মায়ামি বনাম প্যারিস সেইন্ট জার্মেইর (পিএসজি) লড়াই ক্লাব বিশ্বকাপের শেষ ষোলোতে দুই ভিন্ন মেরুর দলের সংঘর্ষ। আর এই ম্যাচেই হতে যাচ্ছে এক ঐতিহাসিক পুনর্মিলন—লিওনেল মেসি বনাম তার পুরোনো ক্লাব পিএসজি।
অপেক্ষা, আবেগ আর প্রতিশোধের ইঙ্গিতে ভরপুর এই ম্যাচে মায়ামির আকাশ জ্বলবে রোমাঞ্চে। রোববার বাংলাদেশ সময় রাত ১০টায় আটলান্টার মার্সিডিজ-বেঞ্জ স্টেডিয়ামে মুখোমুখি হবে দুটি ভিন্ন গল্পের দল—একদিকে ইউরোপের চ্যাম্পিয়ন, অন্যদিকে মেসির নেতৃত্বে এগিয়ে চলা এক আমেরিকান স্বপ্ন।
পুরোনো ক্লাবের মুখোমুখি মেসি, প্রথমবারের মতো
বার্সেলোনা ছেড়ে অশ্রুসিক্ত বিদায়, তারপর প্যারিসে দুই মৌসুম। কিন্তু পিএসজির হয়ে মেসি যেন ছিলেন এক অনাকাঙ্ক্ষিত অতিথি। সৌদি সফরের শাস্তি, বিশ্বকাপ জয়েও স্বীকৃতি না পাওয়া, সমর্থকদের বিদ্রুপ—সব মিলে প্যারিস অধ্যায় ছিল বিষাদময়।
মেসির ভাষায়, ‘আমি ছিলাম একমাত্র খেলোয়াড়, যাকে বিশ্বকাপ জয়ের পর ক্লাব কোনো স্বীকৃতি দেয়নি।’
এবার প্রতিপক্ষ সেই ক্লাব, যারা একসময় ছিল আশ্রয়, আজ প্রতিদ্বন্দ্বী। আর কোচ হিসেবে মাঠে থাকবেন তার পুরোনো গুরু লুইস এনরিকে।
‘রাগী মেসি আমাদের জন্য আশীর্বাদ’ — মাশ্চেরানো
ইন্টার মায়ামির কোচ এবং মেসির সাবেক সতীর্থ হ্যাভিয়ের মাশ্চেরানো জানেন, আবেগ নয়, প্রয়োজন রাগী, ক্ষুধার্ত মেসি—যে ম্যাচে ইতিহাস গড়তে চায়।
‘মেসি যখন রাগে, তখন সে ভয়ঙ্কর। এই ম্যাচ তার হৃদয়ের যতটা গভীরে, মাঠেও ততটাই আগুন জ্বলবে।’
বার্সেলোনা রিইউনিয়ন বনাম ইউরোপের সেরা
মেসির পাশে থাকবেন সুয়ারেজ, আলবা, বুসকেটস। অপরদিকে, পিএসজির কভিচা, দেম্বেলে আর এনরিকের রণকৌশল। তরুণ ক্রেমাসচি ও নোয়া অ্যালেনের জন্য এটা baptism by fire।
আলবার কণ্ঠে আত্মবিশ্বাস—”কেন নয়?”
‘পিএসজি আমাদের চেয়ে ভালো হতে পারে। কিন্তু ফুটবলেই তো বিস্ময় লুকিয়ে থাকে। আমরাও স্বপ্ন দেখি। কেন নয়?’
ডেভিড বনাম গোলিয়াথ—ইতিহাস বলে অসম্ভব নয়
মায়ামির সামনে এটাই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। পোর্তো, পালমেইরাস, আল আহলিকে হারিয়ে এসেছে তারা। কিন্তু এবার প্রতিপক্ষ এক অন্য উচ্চতার পিএসজি।
মাশ্চেরানোর কণ্ঠে শেষ বিশ্বাস, ‘ফুটবল সবসময় শক্তির খেলা নয়। দুর্বল দলও জিততে পারে। আমরাও পারব।’
এই ম্যাচ শুধু ক্লাব নয়, মেসির আত্মসম্মান, বার্সা-পিএসজির আবেগ, নতুন অধ্যায়ের সূচনা—সব একসাথে। রোববার রাতে হয়তো মেসির বুটে লেখা হবে নতুন প্রতিশোধের গাঁথা।
মায়ামির স্বপ্ন বনাম প্যারিসের বাস্তবতা—এখন শুধু ৯০ মিনিট দূরত্ব।